হজরত আদম (আ) -> পর্ব-০২




আদম (আ) সম্পর্কে কুরআনের আয়াত 



কুরআন মাজীদে হযরত আদম (আ)-এর সম্পর্কে  ২৫ জায়গায় ২৫ বার এসেছে ।যেমন -

সূরা বাকারায় ৫ বার, সূরা আলে ইমরানে - ২ বার, সূরা মায়িদায় ১ বার, সূরা আরাফে ৭ বার, সূরা ইসরায় ২ বার, সূরা কাহফে  ১ বার, সূরা মারিয়ামে ১ বার, সূরা  তাহায়  ৫ বার, সূরা ইয়াসিনে ১ বার ।

কুরআন মাজীদে  নবী-রাসূলদের আলোচনাসমূহের মাঝে সর্বপ্রথম হযরত আদম (আ) -এর আলোচনা এবং তা নিম্নলিখিত সূরা সমূহে  বর্ণিত হয়েছে -

সূরা বাকারা, সূরা আরাফ,  সূরা ইসরা এবং সূরা  ত্বোয়া-হা'তে  তার নাম, গুণাবলী ও কার্যাবলীর আলোচনা স্থান পেয়েছে । আর সূরা হিজর ও সূরা ছোয়াদে শুধু  গুণাবলি  এবং সূরা আলে-ইমরান মায়েদাহ, মারিয়াম এবং ইয়াসিনে  আনুঙ্গিকরূপে শুধু নামের উল্লেখ করা হয়েছে ।
হযরত আদম এর প্রসিদ্ধ ঘটনাটি, উপরিউল্লিখিত  সূরা আয়াত ও সমূহে যদিও বর্ণনা  পদ্ধতি, প্রকাশভঙ্গি ও সূক্ষ্ম বিবৃতি  হিসেবে  বিভিন্নরুপ দেখা যায় । কিন্তু উদ্দেশ্য এবং ঘটনা হিসেবে একই বস্তু উপদেশ ও নছীহতের উদ্দেশ্য যা বিভিন্ন ভঙ্গিতে এসেছে ।
কুরআনে ঐতিহাসিক ঘটনাগুলোকে শুধু ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করে না যা একই ইতিহাসে সন্নিহিত হওয়া প্রয়োজন এবং কুরআন মাজীদের  একমাত্র উদ্দেশ্য- এ সমস্ত  ঘটনা থেকে উৎপন্ন ফলকে হেদায়েত ও সৎকর্ম লাভের উপকরণ হিসেবে পেশ করা এবং মানুষের জ্ঞান-বুদ্ধি ও বিবেকের কাছে এ আশা করা যায় যে, সে যেন প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়ম কানুনের ছাঁচে ঢালা  এ সমস্ত ঐতিহাসিক ঘটনার ফলাফল থেকে শিক্ষা লাভ করে ঈমান আনে এবং বিশ্বাস করে যে, আল্লাহ পাকের অস্তিত্ব অনস্বীকার্য মহা সত্য । আর তার অসীম কুদরতের হাতই বিশ্বজগতের সকল অস্তিত্বের উপর কাজ করছে । 
আর সেই  ধর্মীয় বিধানসমূহ সফলতা ও মুক্তি এবং প্রত্যেক প্রকারের উন্নতির রহস্য নিহিত রয়েছে ।
যার নাম সৃষ্টিগত ধর্ম বা ইসলাম । 

কোরআনের একটি মুজিযা, এটা একই  ঘটনাকে বিভিন্ন সূরায় তাহাদেরই  বিষয়বস্তুর সাথে সামস্য রেখে  ও নতুন অভিনব কায়দায় বর্ণনা করা সত্ত্বেও ঘটনার মৌলিকতায় এবং দৃঢ়তায় নামেমাত্র প্রভেদও দেখা যায় না । কোথাও ঘটনার  বিস্তারিত বিবরণ, কোথাও মোটামুটি বর্ণনা, কোনস্থানে  তার কোন একটি দিকের আলোচনা পরিত্যক্ত হলে অনত্র সেই দিকটিকেই দর্শকদের সামনে সমধিক উজ্জ্বল করে তুলে ধরা হয়েছে । একস্থানে সেই ঘটনা হতে আনন্দ, প্রফুল্লতা,স্বাদ ও উৎফুল্লতা  উৎপাদক ফল বের করা হয়েছে, আবার সাথে সাথে অনত্র ঐ ঘটনায় কোন রকম পরিবর্তন ছাড়াই  ভয় ও আতঙ্কের সৃষ্টি করা হয়েছে এবং  কোন কোন সময়ে একই স্থানে সুখ এবং ব্যথানুভব উভয় বিষয়ই পাশাপাশি দেখা যায়। কিন্তু উপদেশ ও নছীহত এসমস্ত  বিষয়ের নয়  মূল ঘটনার মৌলিকতায় ও  দৃঢ়তায় সামান্য পরিবর্তন হওয়া সম্ভব নয় । 
নিঃসন্দেহে এ ধরনের  অবস্থা কুরআনেরই মুজিযা । বিপরীতমুখী গুণাবলির অধিকারী মানুষের উচ্চতম শ্রেণীর ভাষার অলংকারের সাবলীলতা ফাছাহাত ও বালাগাতের অন্তর্ভুক্ত নয় । 

এ প্রসঙ্গে আল্লাহপাক কুরআনে  ঘোষণা করেন-



اَفَلَا يَتَدَبَّرُوۡنَ الۡقُرۡاٰنَ​ؕ وَلَوۡ كَانَ مِنۡ عِنۡدِ غَيۡرِ

 

اللّٰهِ لَوَجَدُوۡا فِيۡهِ اخۡتِلَافًا كَثِيۡرًا



উচ্চারণ ঃ আফালা ইয়াতদাব্বারু নাল কুরআন  ওয়ালাও কানা মিন ইনদা গাইরি ল্লাহি  লাওজাদু  ফিহি ইখতিলাফান কাছীরান ।

-সূরা নিসা ঃ ৮২


অর্থ ঃ  মানুষ কি কুরআন সম্পর্কে চিন্তা ও গবেষণা করে না ? যদি আল্লাহ্‌ ব্যতীত অন্য কারো বাণী হত তবে নিঃসন্দেহে, তারা এতে নানা প্রকারের অসামাঞ্জসস দেখতে পেত ।



বিশেষ দ্রষ্টব্য ঃ উল্লিখিত  অংশের অধিকাংশই "মাওলানা ক্বারী মোহাম্মাদ হাসান " -  এর "কোরআন  হাদিসের আলোকে কাসাসুল আম্বিয়া" - বইটির থেকে  সংগৃহীত করা হয়েছে ।"

ধন্যবাদ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ